এই প্রেমের সম্পর্কগুলোর নিশ্চিত পরিণতি হয় “ব্রেকআপ”


বেশ ভালোই তো চলছে আপনাদের দুজনের সম্পর্কটি। ঘুরছেন, বাইরে খাচ্ছেন, সময় কাটাচ্ছেন, ফোনে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলছেন কিংবা ফেসবুকে চ্যাট করছেন দিনের পর দিন। কিন্তু আপনার এই সম্পর্কের পরিণতি কী হবে ভেবে দেখেছেন? এই সম্পর্কটি কি সারাজীবন টিকবে নাকি এর পরিণতি হবে ব্রেকআপ? কিছু কিছু সম্পর্ক আছে যেগুলোর নিশ্চিত পরিণতি হলো ব্রেকআপ। যতই টেনেহিঁচড়ে সম্পর্কের মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করা হোক না কেন, এক সময় না এক সময় তা ব্রেকআপ পর্যন্ত গড়াবেই। আসুন জেনে নেয়া যাক সেসকল সম্পর্কের কথা যেগুলোর শেষ পরিণতি হয় ব্রেকআপঃ

* পুরোনো প্রেমকে ভুলে থাকার জন্য সম্পর্ক : পুরোনো প্রেমকে হারানোর পরে অনেকেই এধরণের সম্পর্ক করে থাকে। অনেকদিনের পুরনো সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর স্বাভাবিক ভাবেই মানুষ একাকীত্বে ভোগে। আর এই একাকীত্ব দূর করার জন্য অনেকেই ঝোঁকের মাথায় নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এধরণের সম্পর্কের পরিণতি দুজনের জন্যই খারাপ হয় এবং এর শেষ পরিণতি হয় ব্রেকআপ। কারণ একটা নির্দিষ্ট সময় পর পুরনো প্রেমের কষ্ট কিছু কম হলে বর্তমান প্রেমিক/প্রেমিকার সকল দোষ-ত্রুটি চোখে ধরা পড়তে শুরু করে, জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ।

* শুধরে নেয়ার জন্য সম্পর্ক : অনেক মেয়েকেই দেখা যায় এমন কারো সাথে প্রেম করে যাকে সমাজ খারাপ হিসেবেই চিনে। সাধারণত এধরণের প্রেমের মূল উদ্দ্যেশ্য থাকে সহানুভুতি ও শুধরে নেয়ার চেষ্টা। এই প্রবণতাটা কমবয়সী মেয়েদের মাঝে বেশি লক্ষ্য করা যায়। আর তাই তাঁরা প্রেমের বখাটে ও নেশাগ্রস্থ ছেলেদের প্রেমে জড়িয়ে যায় এবং তাদেরকে শুধরে নেয়ার চেষ্টা করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এইধরনের চেষ্টা বিফলে যায় এবং তীব্র মানসিক যন্ত্রণা পাওয়ার পর এর পরিণতি হয় ব্রেকআপ।

* ভিন্ন সামাজিক স্ট্যাটাসের সম্পর্ক : সাধারণত একই ধরনের বা কাছাকাছি সামাজিক ও আর্থিক স্ট্যাটাসের সম্পর্ক গুলোই বেশি সফল হয়। দুজনের সামাজিক ও আর্থিক স্ট্যাটাসে আকাশ-পাতাল তফাৎ থাকলে সাধারণত সেই সম্পর্কগুলো সফল হয় না এবং ব্রেকআপ হয়ে যায়। কেবলমাত্র সিনেমাতেই এই ধরনের সম্পর্কের সফলতা দেখা সম্ভব।

* শারীরিক চাহিদা নির্ভর সম্পর্ক : যে ধরনের সম্পর্কে বিয়ের আগেই যৌনসম্পর্ক করার জন্য অধিক চাহিদা থাকে এবং শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য জোর করা হয়, সেই ধরনের সম্পর্ক সাধারণত বিয়ে পর্যন্ত গড়ায় না এবং বিয়ের আগেই ব্রেকআপ হয়ে যায়। কেবল মাত্র শারীরিক চাহিদা মেটানোর জন্য এবং অনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এধরণের সম্পর্ক করা হয় বলে বেশিদিন টেকে থাকে না এধরণের সম্পর্কগুলো।

* একপক্ষ নির্ভর সম্পর্ক : কেবলমাত্র এক পক্ষের জোরাজুরিতে করা সম্পর্কগুলো হলো একপক্ষ নির্ভর সম্পর্ক। অনেক সময় অনেকে আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে কিংবা ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে পছন্দের মানুষটির সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, এধরণের সম্পর্কগুলোতে কেবলমাত্র একপক্ষই আন্তরিক থাকে। ফলে সম্পর্ক খুব বেশিদিন স্থায়ী হয় না, তখন এসব সম্পর্কের ফলাফল হয় ব্রেকআপ।

শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট