যৌন বিষয়ে নারীদের যেসব ভুল ধারণা



* অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, সেক্স এডুকেশন না জানার ফলে অনেক স্বাভাবিক ব্যাপারগুলো আমরা রোগ মনে করি, আর এক শ্রেনির প্রতারকরা হাতিয়ে নেয় হাজার হাজার টাকা। লজ্জায় গোপনে কারও কাছে বলতেও পারি না। এক সময় সাইকোসোমাটিক ও সাইকো সেক্সুয়াল রোগে ভুগতে থাকি। অথচ এগুলো আমাদের না জানার ফল, অজ্ঞতার ফল, এ ফল খুব কষ্টের।
আসুন জেনে নেই না জানা কিছু যৌনতা সংক্রান্ত সমস্যা।

যৌনতা সংক্রান্ত সমস্যা:
যৌনতার ব্যাপারে আলোচনা করতে গেলে যৌন সংক্রান্ত নারী এবং পুরুষের বিভিন্ন প্রকার সমস্যার বিষয়েও কিছু আলোচনার প্রয়োজন পড়ে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরও বিভিন্ন প্রকার সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। এই সমস্যাগুলো অধিকাংশই নারীর যৌন জীবনের উপর প্রভাব ফেলে। এটি বলা উচিত যে যৌনতার ব্যাপারে যে কোনো প্রকার সমস্যা হলে তা দীর্ঘস্থায়ী যৌন সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। যৌনতার বিষয়ে নারীর প্রধান সমস্যা হলো নারীর যৌনমিলনের ব্যাপারে অনীহা।
নারীর যৌনতার বিষয়ে এই অনাগ্রহের বিভিন্ন কারন থাকতে পারে। নারীর শারীরিক কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থাকলে তা নারীকে যৌন বিমুখ করে তুলতে পারে। আবার মানসিক কোনো অসুবিধা নারীকে যৌনতার ব্যাপারে নিরুৎসাহ যোগায়। শৈশবকালীন মানসিক বা শারীরিক যৌন উৎপীড়ন অনেক ক্ষেত্রে নারীকে যৌন নানা সমস্যার সম্মুখীন করে তোলে। আবার প্রচুর পরিমাণে স্বমেহন নারীর যৌনানুভূতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
যৌন গবেষকরা গবেষণা করে দেখেছেন যে নারী যৌনতা বিষয়ক সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয় মূলত যৌন অনিচ্ছা থেকেই। নারীর সমস্যা মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো যৌনমিলনের সময়ে নারীর যৌনাঙ্গে ব্যথা। কোনো কোনো নারী এই ব্যথার তীব্রতার কারনে যৌনমিলনকে ভয়ের চোখে দেখে। যৌনমিলনে এরকম ব্যথার ডাক্তারী নাম হচ্ছে ডিসপ্যারুনিয়ার। এর দুটো কারন থাকতে পারে, একটি কারন হলো শারীরিক এবং অপরটি হলো মানসিক।

ডিসপ্যারুনিয়া:
এটি নারীদের একটি যৌন সমস্যা। একে ব্যথাযুক্ত যৌনমিলন সমস্যাও বলা হয়। তবে ডিসপ্যারুনিয়া পুরুষেরও হতে পারে। নারীর ডিসপ্যারুনিয়ার কিছু উপসর্গ হলো-

–    লিঙ্গ প্রবেশের সময় যৌনিতে ব্যথা।
–    তলপেটে ব্যথা।
–    ঘন ঘন লিঙ্গ সঞ্চালনের সময় নারী প্রচন্ড ব্যথা পেতে পারে।
–    যৌনমিলনের ব্যাপারে ভীতের সৃষ্টি।

ডিসপ্যারুনিয়ার কারন:
গাইনোকলজিক্যাল এবং সাইকোলজিক্যাল কারনে ডিসপ্যারুনিয়া হতে পারে। যৌনির ভেতর এবং বাহিরে দুই প্রকার সমস্যা এ সময় দেখা দেয়। এছাড়াও শারীরিক বিভিন্ন কারনে যৌনমিলনের সময় নারীর যৌনিতে ব্যথার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো-
১.    পেলভিক ইনফেকশন।
২.    পেলভিক ইনফামেটরি অসুখ।
৩.    ওভারীর অস্বাভাবিক অবস্থা।
৪.    সারভিঙের ইনফেকশন অথবা প্রদাহ।
৫.    ভালভোভ্যাজিনাইটিস সমস্যা।
৬.    বার্থোলিন গ্ল্যান্ডের ইনফেকশন অথবা প্রদাহ।
৭.    যৌনির ত্বকের প্রদাহ।
৮.    এন্ডোমেট্রোসিস জাতীয় সমস্যা।
৯.    যৌনির শুষ্কতা।
১০.    যৌনিতে টিউমার হওয়া।
আবার মানসিক নানা কারনেও যৌনমিলনের সময় নারীর যৌনিতে ব্যথার উদ্রেক হতে পারে। এই কারনগুলোর মধ্যে যৌন শীতলতা, যৌনতা সর্ম্পকে কুসংস্কার, ধর্মীয় কুসংস্কারের প্রভাব, যৌন অজানা বিষয় এবং শৈশবকালীন বা পরবর্তী সময়ে যৌন নিপীড়িত হলে নারীর যৌনমিলন কালীন ব্যথার সৃষ্টি বা ডিসপ্যারুনিয়া হতে পারে। যৌনির বাহিরে যে কারনে সমস্যা হয় তা হলো-
* সতীচ্ছেদ ছিঁড়ে যাওয়া।
* এপিসিওটমিক ছিঁড়ে যাওয়া।
* বার্থোলিন গ্ল্যান্ডের স্ফীতি।
* ক্লিটোরিসে ব্যথা।

এছাড়াও যৌনির ভেতরে যে কারনে ব্যথার সৃষ্টি হয় সেগুলো হলো-
* পর্যাপ্ত পিচ্ছিলতা না থাকা।
* যৌনির ইফেকশন।
* যৌনিতে ¯েপ্র বা ফোমের ব্যবহার।
* সেনাইল ভ্যাজিনিটিস।

অন্যান্য কারন-
* ইউটেরাইন লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া।
* পেলভিক ইনফেকশন।
* যৌনির স্ফীতি।
* মূত্রথলির সমস্যা।
* ধর্মীয় চাপ।
* তিক্ত যৌন ইতিহাস।
* পিচ্ছিলতা কমে যাওয়া ইত্যাদি।

চিকিৎসা:
মনোদৈহিক বা শারীরিক যে কারনেই ডিসপ্যারুনিয়া হোক না কেন একে যদি নির্ণয় করা যায় তবে এই সমস্যাকে ওষুধে বা সার্জারিতে সারিয়ে তোলা সম্ভব। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ বিষয়টি যে কারনে ঘটে তা হলো যৌনির শুষ্কতা। যৌনমিলনের প্রথম দিকে যৌনির এই সমস্যার জন্য অনেক নারী ব্যথা অনুভব করে।
এক্ষেত্রে মিলনের সময় লুব্রিকেটেড জেলী ব্যবহার করা যেতে পারে। এই জাতীয় জেলী যৌনিকে মিলনের উপযোগী করে তোলে। শারীরিক কোনো কারনে যদি ডিসপ্যারুনিয়া হয়ে থাকে তবে এর জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহন করা উচিত। নারীর যৌন সমস্যাগুলোকে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। তাই এ সমস্যাগুলোর কথা অনেক সময়েই অন্যকে জানানো সম্ভব হয়ে উঠে না এবং সমস্যা গোপন থাকার কারনে তা উত্তরোত্তর বেড়েই চলে। আবার অহেতুক বিলম্বের কারনে অনেক সময় চিকিৎসাও জটিল হয়ে উঠে। ডিসপ্যারুনিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে নারীদের উচিত গাইনোকলজিস্টের পরামর্শ নেয়া এবং পুরুষদের উচিত ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেয়া।

শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট